অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ আদালতে গড়ানোর পর দলটি ষষ্ঠবারের মতো ভাঙতে যাচ্ছে। দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বিরোধীরা আজ শনিবার জাপার নামে কাউন্সিল আহ্বান করেছে। তবে জি এম কাদের নিযুক্ত মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এটিকে অবৈধ বলেছেন।
গত তিন সংসদে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় অংশ নেওয়ায় জাপা ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ তকমা পেয়েছিল। ১৯৮৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দলটি প্রতিষ্ঠার পর তাঁর জীবদ্দশায় চারবার ভেঙেছে। ২০১৯ সালে জি এম কাদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর আরও একবার ভাঙে।
গত বছরের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর রওশন এরশাদের অনুসারীরা একই নামে দল গঠন করেন। জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর জি এম কাদের অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেন। কিন্তু ছাত্রনেতাদের আপত্তিতে সরকারি বৈঠকে জাপাকে আর ডাকা হয়নি এবং তাদের কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে। এরপর কাদের সরকারের সমালোচক হিসেবে সামনে আসেন।
এরপর আওয়ামী লীগপন্থি পরিচিত কিছু নেতা, যারা শেখ হাসিনার সময়ে মন্ত্রী বা এমপি ছিলেন, জাপার গঠনতন্ত্রের ২০(১) ‘ক’ ধারা সংশোধনের দাবি তোলেন। গত মে মাসে জাপার প্রেসিডিয়ামে সিদ্ধান্ত হয়, ২৮ জুন কাউন্সিল হবে। তবে প্রধান উপদেষ্টার কর্মসূচির কারণে ভেন্যু না পাওয়ার অজুহাতে কাদের কাউন্সিল স্থগিত করেন। এ সময় চেয়ারম্যান পদে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব পদে রুহুল আমিন হাওলাদার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
কাদের কাউন্সিল স্থগিত করে আনিসুল, রুহুল আমিন এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেন। ২০(১) ‘ক’ ধারার ক্ষমতাবলে আরও চার প্রেসিডিয়াম সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ১০ নেতা মামলা করেন এবং আদালত কাদেরকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দেন।
নবযাত্রার দাবি
এই প্রেক্ষাপটে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আজকের কাউন্সিল আহ্বান করেছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভেদ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন যাত্রা শুরু করবে জাপা। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি দল ভাঙার জন্য নয়; বরং আদালতের আদেশ ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিল। এতে বিতর্কিত ধারা বাতিল করে যৌথ নেতৃত্বে দল চলবে।
মুজিবুল হক চুন্নু জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞায় কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বাস্তবতা ও নির্বাচন কমিশনের সময়সীমা মেনে ৫ আগস্ট আনিসুলের সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়ামে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় কাউন্সিল করার। রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে জাপা নতুন অভিযাত্রায় নেমেছে।
কাদেরপক্ষের অভিযোগ
অন্যদিকে কাকরাইলে দলীয় কার্যালয়ে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বহিষ্কৃত নেতারা কাউন্সিল ডাকার ক্ষমতা রাখেন না। আদালত তাদের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি, তাই তারা বহিষ্কৃতই আছেন। আদালতের আদেশে শুধু চেয়ারম্যান ও দপ্তর সম্পাদককে দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা দল ভেঙেছে, তারা শেষ পর্যন্ত ছোট দলে পরিণত হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে শামীম হায়দার বলেন, বর্তমানে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। নির্বাচন স্বচ্ছ করতে সরকারের সদিচ্ছা ও সক্ষমতা দরকার। তা দেখা গেলে জাপা অংশ নেবে।
