অনলাইন ডেস্ক
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইন বিভাগের সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষক বাদশা মিয়ার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে, হাইকোর্ট কর্তৃক তার দুই বছরের বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করার প্রতিবাদ জানায় তারা।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন হল ঘুরে আবার শহিদ মিনারে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তারা ‘স্বৈরাচারের দালালেরা সাবধান’, ‘জাস্টিস ফর ফয়েজ’, ‘জ্বালাও জ্বালাও আগুন জ্বালাও’, ‘বহিষ্কার চাই-স্থায়ী বহিষ্কার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাদশা মিয়া আইন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ফয়েজ আহমেদের শিক্ষাজীবন নষ্ট করেছেন। এমনকি অভিযোগ তুলতে গিয়ে ফয়েজের পরিবারকেও হয়রানি করা হচ্ছে।
আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী রানা বলেন, বাদশা মিয়া আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ একজন, যিনি আমাদের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফয়েজ আহমেদের তিনটি বছর নষ্ট করে দিয়েছেন। বিনা কারণে তাকে জেল খাটতে হয়েছে। এটি বাদশা মিয়া করেছেন উচ্চ মহলের তোষামোদ করতে, যেন পদোন্নতি পান।
আরেক শিক্ষার্থী জাফর আহমেদ বলেন, বাদশা মিয়া শুধু নোবিপ্রবির না, বরং গোটা দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। তিনি শিক্ষক হিসেবে নয়, বরং দলীয় চাটুকার হিসেবে কাজ করেছেন। এমন একজনকে মাত্র দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করায় আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুর্নীতির কাছে নতি স্বীকার করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বাদশা মিয়া ও কোষাধ্যক্ষ হানিফ মুরাদ স্যারের মধ্যে কথোপকথন রয়েছে, যাতে বাদশা মিয়াকে পুনর্বহাল করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানায়—তিনি যেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত হন এবং ক্যাম্পাসে একটি উদাহরণ স্থাপন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যের জেরে ফয়েজ আহমেদকে পাঁচ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় এবং পরবর্তীতে মামলা ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামিন পেলেও চার বছর ক্লাসে ফিরতে পারেননি তিনি।
২০২4 সালের ৫ আগস্ট তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত শেষে বাদশা মিয়াকে দুই বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়। কিন্তু হাইকোর্ট সেই শাস্তি স্থগিত করলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নামে এবং স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানায়।
