অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণ এখন বিএনপির নেতাদের কাছে এসে তাদের সমস্যার কথা বলছে। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ এসে আমাদের বলে, তাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। আগে এমপি-মেয়ররা কিছু বলত, কথা বলত, এখন তারা মুখ খুলতেও পারছে না। সবাইকে এ বিষয়টি বুঝতে হবে।’’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান’-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু দেশে এখন একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—লিবারেল ডেমোক্রেসি (উদার গণতন্ত্র) কিছুটা পেছনে পড়ে যাচ্ছে, আর পপুলিস্ট (জনতাবাদী) রাজনীতি সামনে চলে আসছে। এটা বাস্তবতা। কেন এমন হচ্ছে, সেটা গবেষকেরা ব্যাখ্যা করতে পারবেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্তি পেয়েছি, এরপর শুরু হয় পাকিস্তানি শাসন। পরে আবার নিজের দেশের শাসকদের অধীনেই আমরা যেন নতুন এক দাসত্বে পড়েছি। আমরা চাই একটি মুক্ত সমাজ, একটি মুক্ত রাষ্ট্র, যেখানে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা থাকবে।’’
গতকাল (বুধবার) বিএনপি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে’ নিহতদের স্মরণে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল। সেখানে এক নারী তার ১৪ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে এসে জানান, ‘‘আমার স্বামীকে হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এখন আমি জানি না, এই শিশুকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব।’’
এই ঘটনার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘এই মায়ের কথা শুনে আমার মনে প্রশ্ন জাগে—রাষ্ট্রটা আসলে কার জন্য? যাঁরা রাষ্ট্র চালাচ্ছেন, তারা এই এক বছরেও কি নিহতদের পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন?’’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বিএনপির পল্টনের সমাবেশ থেকে তিনি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন। তখন অনেকে তার সমালোচনা করেছিলেন। এখন সেই সমালোচকেরাই বলছেন, ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় ইতোমধ্যে ১২টি বিষয়ে একমত হয়েছে বিভিন্ন পক্ষ। বাকি বিষয়গুলোতেও ঐকমত্য গড়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকলেও পারস্পরিক সম্মান থাকা উচিত। নইলে কাদা ছোড়াছুড়ি রাজনীতিকে আরও কলুষিত করবে।’’
সভায় ৫ জন সাংবাদিককে সম্মাননা দেওয়া হয়, যারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। উপস্থিত ছিলেন মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ), মতিউর রহমান চৌধুরী (মানবজমিন)। অন্য তিনজন—শফিক রেহমান (যায়যায়দিন), নুরুল কবির (নিউ এজ), আবুল আসাদ (দৈনিক সংগ্রাম)—উপস্থিত ছিলেন না।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান, শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন ও শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘জুলাই বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।
