অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক মার্কিন তরুণ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীরা। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার (১১ জুলাই) রামাল্লার উত্তরের সিঞ্জিল শহরে সাইফুল্লাহ মুসাল্লেত নামের এই তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ট্যাম্পা শহরের বাসিন্দা ছিলেন।
পরিবার জানায়, ছুটিতে ফিলিস্তিনে থাকা আত্মীয়দের দেখতে এসেছিলেন মুসাল্লেত। তাঁকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ‘ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কাজ’ বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এই ঘটনায় একই দিনে মোহাম্মদ শালাবি নামের আরেকজন ফিলিস্তিনি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে নিহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নতুন নয়। প্রায়ই তারা ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, আগুন লাগায়, এমনকি হত্যা করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভাষ্য, এসব হামলা অনেক সময় গণহত্যার পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায়ই এসব হামলায় বসতি স্থাপনকারীদের রক্ষা করে এবং ফিলিস্তিনিরা প্রতিরোধ করলে তাদের গুলি করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি অবৈধ হলেও ইসরায়েল সেখানে দখলদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশ বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর হামলার ঘটনা বেড়েছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে বসতি স্থাপনকারীদের ওপর বাইডেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। ২০২২ সাল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অন্তত ৯ জন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আল–জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। এসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি।
মুসাল্লেত হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন সিএআইআর (কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস) যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছে, মার্কিন নাগরিকদের রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
সিএআইআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যদি মার্কিন সরকার নিজেদের নাগরিক হত্যার বিচার না করে, তাহলে এটা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নয়, বরং ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ নীতি।
মানবাধিকার সংগঠন আইএমইইউ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনীর মদদে বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, মার্কিন সরকারের উচিত এসব বর্ণবাদী সহিংসতা বন্ধ করা, কিন্তু উল্টো তারা এসবের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, সহিংসতা শুরু হয় তখন, যখন ‘ফিলিস্তিনিরা তাদের গাড়িতে পাথর ছোড়ে’। তারা বলেছে, ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৭,৭৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, যা তারা গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
