অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্ট হোক গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্ট হচ্ছে স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের জন্য একটি আনন্দের ও বিজয়ের দিন। এই দিনে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে এবং এখন থেকে দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হবে।
তিনি বলেন, গত দেড় দশক ধরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে। এই সময়ে গুম, খুন, অপহরণ, মামলা, নির্যাতন ছিল প্রতিদিনের ঘটনা। ‘আয়নাঘর’ নামে শত শত গোপন বন্দিশালায় মানুষকে আটকে রাখা হতো এবং অনেককে চিরতরে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলম তার উদাহরণ।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল, শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছিল। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া করা হয়েছে এবং ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।
তিনি জানান, এই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে আসে। এই আন্দোলনে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়, দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন, প্রায় ৩০ হাজার আহত হন। তিনি এই আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো বলেও উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, শহীদদের ঋণ শোধ করতে হলে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি একটি ইনসাফভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করেন। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দেন।
তিনি সমালোচনা করেন, যারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ফ্যাসিবাদী সরকারের তুলনা করতে চায়। ৫ আগস্টের ঘটনাকে তিনি নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেদিন গণভবন, সংসদ ভবন, আদালত, মন্ত্রিসভা—সব জায়গা ছেড়ে সবাই পালিয়ে গিয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ আসবে না, গণতন্ত্র ধ্বংস হবে না এবং বাংলাদেশকে কোনো বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হবে না। তিনি এসব বিষয়ে জাতীয় ঐক্য বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা বা উগ্রবাদ যেন মাথা না তোলে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি দল জনগণের কাছে তাদের কর্মসূচি নিয়ে যাবে, আর জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।
তারেক রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সব স্তরে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণকে শক্তিশালী না করলে কোনো রাষ্ট্রই টেকসই হতে পারে না।
সবশেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান—আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া, সহিংসতা না করা, নারীদের প্রতি সম্মান দেখানো এবং অন্যের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার। তিনি বলেন, ‘মায়ের চোখে বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে হবে—যেখানে সবাই নিরাপদে থাকবে, দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে।
তিনি আশা করেন, আজ এবং আগামী সব ৫ আগস্ট হয়ে উঠবে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিজ্ঞার দিন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকার পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর দিনটিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার।
