অনলাইন ডেস্ক
গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দায় স্বীকার করে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এই মামলায় প্রধান অভিযুক্তদের একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মামলায় আরও আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ট্রাইব্যুনালে মামুন ‘রাজসাক্ষী’ (অ্যাপ্রুভার) হতে রাজি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামুন বলেন, তিনি দোষ স্বীকার করছেন এবং আদালতকে ঘটনাগুলোর সব সত্য তথ্য জানাতে চান। এরপর আদালত তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করে অভিযোগ গঠন করেন এবং তাঁকে ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে গ্রহণ করেন।
এই মামলার শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল আগামী ৩ আগস্ট মামলার ‘ওপেনিং স্টেটমেন্ট’ বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের দিন ঠিক করেছে এবং ৪ আগস্ট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী:
1. ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা ছাত্রদের রাজাকারের সন্তান বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা ব্যাপকভাবে হামলা চালায়, যাতে দেড় হাজার মানুষ নিহত ও প্রায় ২৫ হাজার আহত হয়।
2. প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার, ড্রোন ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর করে।
3. রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
4. ঢাকার চানখাঁরপুলে ৬ আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
5. আশুলিয়ায় ৬ জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
এছাড়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আরও তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আদালত অবমাননার মামলায় তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করায় আদালত তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে তিনি এই মামলায় দণ্ড থেকে অব্যাহতি পাবেন কি না, তা নির্ভর করবে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পলাতক ২৪ জন আসামিকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২। মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।
