অনলাইন ডেস্ক
নেপালের আদালত ২০১৮ সালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই রায়ে ইউএস-বাংলাকে ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৮ কোটি নেপালি রুপি) দিতে বলা হয়েছে।
নেপালের কাঠমান্ডু জেলা আদালত জানিয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ পরিবারের প্রতি পরিবারকে বিমার বাইরে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর আগে বিমা কোম্পানির পক্ষ থেকে পরিবারপ্রতি ২০ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছিল।
তবে ইউএস-বাংলা বলেছে, তারা এখনো আদালতের কোনো রায়ের কপি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি। এয়ারলাইন্সটি জানায়, তাদের আইনি দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং পরে বিস্তারিত জানাবে।
এর আগেও ইউএস-বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, নেপালের কোনো আদালত ইউএস-বাংলার বিরুদ্ধে কোনো রায় দেয়নি। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনকে তিনি ‘মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত’ বলে দাবি করেন।
কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, এই রায় নেপালের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। গত ৭০ বছরে নেপালে ৭০টির বেশি বিমান দুর্ঘটনায় প্রায় ৯৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম, কোনো এয়ারলাইন্সকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হলো।
২০১৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। ৭৬ আসনের বিমানটিতে ৭১ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হন—তাদের মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি এবং ১ জন চীনা নাগরিক।
রায়ে বলা হয়েছে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স একটি চলার উপযোগী বিমান পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে এবং ‘গুরুতর গাফিলতি’ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, বিমান চালকের মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ছিল এবং এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবারকে ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ ৭৭ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক জীবিত যাত্রী ডা. সামিরা ব্যঞ্জনকরকে দেওয়া হবে ৪৪ হাজার ২৯০ ডলার। এই অর্থ বিমা অর্থ ছাড়াও আলাদাভাবে দিতে হবে।
এই রায় ১৯২৯ সালের ওয়ারশ কনভেনশন এবং ১৯৫৫ সালের হেগ প্রটোকল অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে, কারণ দুর্ঘটনার সময় বাংলাদেশ ও নেপাল মন্ট্রিয়াল কনভেনশনের সদস্য ছিল না।
আইনজীবীরা বলেন, বিমা অর্থ ও ক্ষতিপূরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বিমা পেলে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায় না—এই ধারণা ভুল। আদালতের মতে, অবহেলা বা গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
আদালতের এই রায় শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নয়, বরং নেপালের আইনি ইতিহাসেও এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটি অন্য বিমান সংস্থাগুলোকেও নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করবে।
—
তথ্যসূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
