অনলাইন ডেস্ক
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) একটি ভয়াবহ সামরিক সংঘর্ষ হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চল এমেরাল্ড ট্রায়াঙ্গেলে এই সংঘর্ষে উভয় দেশের সেনারা ট্যাংক, কামান ও স্থলবাহিনী ব্যবহার করে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।
থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওস সীমান্তের এই অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ১৫ বছর আগেও এই বিরোধ রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছিল। গত মে মাসে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডে রকেট ও কামানের গোলা ছোড়ে। জবাবে থাই সামরিক বাহিনী এফ-১৬ জেট দিয়ে হামলা চালায়। থাই জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এতে এক সেনা ও অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই সিসাকেট প্রদেশের একটি পেট্রল পাম্পের কাছে রকেট হামলায় প্রাণ হারান।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি দোকান থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে। প্রাদেশিক কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের অনেকেই দোকানের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থী ছিলেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমি বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী। এমন কিছু জীবনে প্রথম দেখলাম। এখন রাত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’
এই হামলায় আরও ৩৫ জন বেসামরিক লোক আহত হয়েছেন বলে জানায় থাই মন্ত্রণালয়।
থাই সেনাবাহিনী জানায়, ছয়টি স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। তারা জানিয়েছে, কম্বোডিয়ান বাহিনীর সঙ্গে ট্যাংক ও স্থলবাহিনীর লড়াই চলছে। থাই বিমানবাহিনীর ছয়টি জেট বিমান মোতায়েন করে কম্বোডিয়ার দুটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়।
কম্বোডিয়া এখনো তাদের পক্ষের হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেতা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সীমান্ত এলাকার দুটি মন্দিরের কাছে সংঘর্ষ হয় এবং উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে। কম্বোডিয়ার দাবি, তারা আত্মরক্ষার্থে হামলার জবাব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।
থাইল্যান্ড কম্বোডিয়াকে ‘নৃশংস’ ও ‘যুদ্ধকামী’ বলে অভিযুক্ত করে সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে। থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কম্বোডিয়া প্রথমে গুলি চালায় এবং বেসামরিকদের টার্গেট করে। তাদের দাবি, দুটি বিএম-২১ রকেট সুরিন প্রদেশের একটি এলাকায় আঘাত হানে এবং তিনজন আহত হন।
নম পেনে থাইল্যান্ডের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের দ্রুত কম্বোডিয়া ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া তাদের নাগরিকদের থাইল্যান্ড সীমান্ত এড়িয়ে চলতে বলেছে।
স্থলমাইন বিস্ফোরণে থাই বাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হওয়ার পর থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে এবং নিজ দেশের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়। এরপরই কম্বোডিয়াও তাদের কূটনীতিকদের সরিয়ে নেয় ও থাই কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশকে শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। মালয়েশিয়া বর্তমানে আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া দুটো দেশই এই আঞ্চলিক সংগঠনের সদস্য।
সূত্র: এএফপি
