অনলাইন ডেস্ক
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
এই ঘোষণাপত্রটি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে সরকার এটি চূড়ান্ত করেছে, এবং এ বিষয়ে একটি ঐক্যমত্যও তৈরি হয়েছে। ঘোষণাপত্রটি ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জয়ী জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ পাকিস্তানের শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠার আশায় হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর জনগণ গণতান্ত্রিক ও সাম্যভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়। তারা একদলীয় শাসন চালু করে মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবে একদলীয় বাকশাল বাতিল হয় এবং গণতন্ত্রের পথ খুলে যায়। এরপর সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরায় চালু হয়।”
তবে তিনি বলেন, “২০০৭ সালের ১/১১ ষড়যন্ত্র এবং পরে শেখ হাসিনার শাসনামলে একদলীয় শাসন, গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতি বেড়ে যায় এবং দেশ একসময় ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।”
১৬ বছর ধরে জনগণ এই শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার পতন ঘটে। ৫ আগস্ট তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
এরপর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন এবং সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হবে এবং তাঁদের পরিবারকে আইনি সুরক্ষা ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এছাড়া, এই ঘোষণাপত্র ভবিষ্যতের নির্বাচনের পর গঠিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
