অনলাইন ডেস্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দুই শিক্ষক ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের তিন নেতার ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অছাত্রদের প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন।
রবিবার (১৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভবনের সামনে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানান।
তারা বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি অছাত্রদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এসব দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসে কেউ কোনোদিন শিক্ষকের গায়ে হাত তুলতে সাহস পায়নি। কিন্তু এখন এমন ঘটনার সাহস তারা কীভাবে পেল?’
একই বিভাগের তোফায়েল ইসলাম বলেন, ‘আগে ক্যাম্পাসে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের আইডি ট্যাগ লাগত। এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আবার সেই ট্যাগের রাজনীতি শুরু হয়েছে। আগে শিবির ট্যাগ দেওয়া হতো, এখন ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। যারা আন্দোলনে আহত হয়েছে, তাদের ট্যাগ দিয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’
আরেক শিক্ষার্থী ইরফান বলেন, ‘জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছিলেন, তাদের ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনের শিক্ষক–ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. এ কে এম রিফাত হাসান ও সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলামকেও ছাত্রদল মারধর করেছে। যেখানে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কিভাবে নিরাপদ থাকবে?’
তবে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, হামলার ঘটনার পরও প্রশাসন কিংবা শিক্ষক সমিতি কোনো নিন্দা প্রকাশ করেনি।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেককে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে মারধর করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ঘটনাস্থলে শিক্ষক রিফাত হাসান ও সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম বাধা দিতে গেলে তাঁদেরও গালাগালি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ।
তিন নেতা—বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সভাপতি ফয়সাল মুরাদ, মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস হাসান ও যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক—এমন হামলার শিকার হন বলেও শিক্ষার্থীরা দাবি করেন।
