অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক হাসান আহমেদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। কখনো টাকা উদ্ধার, আবার কখনো গাছ ছাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি অর্থ দাবি করেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
হাসান চবির অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলে থাকছেন।
সূত্র জানায়, গত ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের এক কর্মচারীকে হাসান ও তার কয়েকজন সহযোগী বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে যান। সেখানে তারা ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে চাকরি করতে না দেওয়ার হুমকি দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখতেও ভয় দেখানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই কর্মচারী স্থানীয় ‘হানিফ-হাসান’ গ্রুপের সদস্য। তিনি পূর্বে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় চলতেন এবং বিরোধীদের হয়রানি করতেন। এসব বিষয় জানার পর হাসান তাকে ডেকে এনে চাঁদা দাবি করেন বলে দাবি করেছেন তারা।
এর আগে গত ১৮ জুন ভারি বৃষ্টির পর গিরিপথ দিয়ে ভেসে আসা কিছু গাছ জব্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, এই গাছগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য হাসান এক গাছ ব্যবসায়ীর কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
এ বিষয়ে গাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান, “আমার কর্মচারীরা ফোন দিয়ে জানায়, কিছু ছেলে গাছ আটকে দিয়েছে এবং তারা ২০ হাজার টাকা দাবি করছে। আমি যাওয়ার আগেই অনেক ছেলে সেখানে জড়ো হয়ে যায়।”
ছাত্রদল চবি শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদ বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। যদি সত্যি প্রমাণ হয়, দলের ভাবমূর্তি নষ্টকারী কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, “বিষয়টি জানার পর হাসানকে সতর্ক করেছি এবং তার রাজনৈতিক অভিভাবককেও জানিয়েছি। কেউ যদি ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে, তার কোনো স্থান থাকবে না।”
শাখা সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন বলেন, “আমি ঢাকায় ছিলাম। বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি এবং অভিযুক্তকে সতর্ক করেছি।”
তবে হাসান আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ফরহাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। পরে তারা নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসা করবে বলে জানিয়েছে। টাকা চাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা।”
