অনলাইন ডেস্ক
ফিলিস্তিনের গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। রবিবার রাতে আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান গেটের বাইরে সাংবাদিকদের তাবুতে হামলায় মোট সাতজন মারা যান।
নিহতদের মধ্যে আছেন আল জাজিরা আরবি প্রতিবেদক আনাস আল-শরীফ, মোহাম্মদ কুরাইকেহ, ক্যামেরাপার্সন ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নুফাল ও মুআমেন আলিওয়া।
হামলার কিছুক্ষণ আগে উত্তর গাজা থেকে নিয়মিত সংবাদ পাঠানো আল-শরীফ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, ইসরায়েল গাজা সিটির পূর্ব ও দক্ষিণে ‘ফায়ার বেল্ট’ নামে পরিচিত তীব্র বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে। তার শেষ ভিডিওতে আকাশে বিস্ফোরণের কমলা আলো ও প্রচণ্ড শব্দ ধরা পড়ে।
৬ এপ্রিল এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, “আমি বহুবার শোক ও হারানোর কষ্ট পেয়েছি, তবুও সত্য তুলে ধরতে দ্বিধা করিনি।”
আল জাজিরা এ হত্যাকাণ্ডকে “প্রেসের স্বাধীনতার ওপর পরিকল্পিত হামলা” বলে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, “আনাস আল-শরীফ ও সহকর্মীদের হত্যা গাজার দখল ও দমন-পীড়নের সত্য নীরব করার চেষ্টা।”
আল জাজিরার ইংরেজি বিভাগের সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেন, “আল-শরীফের মৃত্যুর খবর প্রচার করা তার ২২ মাসের সাংবাদিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ।” তার মতে, সাংবাদিকদের হত্যা করা হয়েছে গাজার অনাহার, দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টির খবর প্রচারের কারণে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, আল-শরীফ হামাসের সশস্ত্র শাখার সদস্য ছিলেন এবং রকেট হামলায় জড়িত ছিলেন। তবে মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেডের বিশ্লেষক মুহাম্মদ শেহাদা বলেছেন, এর কোনো প্রমাণ নেই; আল-শরীফ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্যামেরার সামনেই থাকতেন।
জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক আইরিন খান গত মাসে সতর্ক করেছিলেন, গাজার সাংবাদিকদের ভিত্তিহীন অভিযোগে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসও এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ২০০-র বেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন।
