অনলাইন ডেস্ক
ভালোবাসা আনন্দও দেয়, আবার কষ্টও দেয়। তবু মানুষ ভালোবাসে, ভালোবেসে দুঃখ পায়। সম্পর্ক যখন কুঁড়ি থেকে ফুলে রূপ নেয়, তখন নানা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। ঠিক এই আবহই দেখা গেছে পরিচালক মুরসালিন শুভর নাটক দেরি করে আসবেন-এ। জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সাদিয়া আয়মান ও সমু চৌধুরী অভিনীত নাটকটি ৩১ জুলাই ক্যাপিটাল ড্রামা ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকেই এটি চার মিলিয়নের বেশি ভিউ ও দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নাটকের নানা দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার সকাল পর্যন্ত নাটকটির ভিউ চার মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। দর্শকরা শুধু উপভোগই করছেন না, বরং মন্তব্যে নিজেদের অনুভূতিও জানাচ্ছেন। একজন দর্শক রনি রায় লিখেছেন, ‘আজ দেরি করে আসবেন কিন্তু—এই কথার পর সাদিয়ার মুখের মৃদু হাসি অপূর্বর সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের মনেও ভালোবাসার ছোঁয়া লাগিয়ে দেয়। অসাধারণ নাটক।’ আরেকজন মেহেদী হাসান লিখেছেন, ‘সুন্দর নাটক, সাদিয়া আয়মান আগের চেয়ে অনেক পরিণত। অপূর্ব তো সবসময়ই অপূর্ব।’
গল্প
নাটকের নায়ক অভিক—একজন ব্যাচেলর ও পেশায় ক্রাইম রিপোর্টার। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন অপূর্ব। ঢাকার মতো শহরে ব্যাচেলরদের জন্য ভালো বাসা পাওয়া কঠিন। নাটকের শুরুতে দেখা যায়, বাড়িওয়ালা কিছু শর্তে খুশিমনে ছাদের ঘর ভাড়া দিচ্ছেন অভিককে—যা গল্পে একটি ইতিবাচক শুরু এনে দেয়।
বাড়িওয়ালার মেয়ে কানন (সাদিয়া আয়মান) এবং অভিকের মধ্যে ধীরে ধীরে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিক প্রায়ই রাত করে বাসায় ফেরে, তখন গেট খুলে দেন কাননের বাবা। কিন্তু একদিন বাবার পা মচকে গেলে বাধ্য হয়ে গেট খুলে দেয় কানন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের কথোপকথন।
দিন যেতে যেতে অভিক টের পায় কানন তার যত্ন নিচ্ছে—জ্বর হলে ওষুধ দিয়ে যাচ্ছে, কবিতা ও বই পড়ার প্রতি দুজনেরই আগ্রহ। এই যত্নে অভিক ধরে নেয়, কানন তাকে পছন্দ করে। কিন্তু কানন ধীরে ধীরে কিছুটা দূরে সরে যায়। একদিন অভিক ফুলের মালা দেওয়ার প্রস্তাব করলে কানন ‘না’ বলে দেয়। অভিক বুঝে নেয়, তাদের মধ্যে কিছু সম্ভব নয়। কাননের বাবা সুস্থ হয়ে গেলে গেট খোলার প্রয়োজনও শেষ হয়। ঠিক তখনই গল্প মোড় নেয় অন্য দিকে।
অভিনয় ও বার্তা
অপূর্ব তার চরিত্রে স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত অভিনয় করেছেন। সাদিয়া আয়মানও ‘কানন’ চরিত্রে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে যখন তিনি বলেন, ‘ফুল ফোটার জন্য বসন্তের অপেক্ষা করতে হয়, সময়ের আগে কিছু ফোটে না।’—তখন তা দর্শকের মনে আলাদা ছোঁয়া দেয়।
নাটকটি মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা ধরে রাখতে হলে যত্ন নিতে হয়। সামান্য অবহেলা বা উপেক্ষা, তা পরীক্ষা নেওয়ার জন্য হলেও, প্রিয় মানুষকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। ভালোবাসা যত্নে বাড়ে, অযত্নে হারিয়ে যায়।
